চলচ্চিত্র কেবল নিছক বিনোদনের মাধ্যম নয়; সমাজের অপ্রকাশিত বাস্তবতা, প্রান্তিক মানুষের গভীর মনস্তত্ত্ব ও অস্তিত্বের লড়াইকে শিল্পের রূপ দেওয়াই চলচ্চিত্রের প্রকৃত শক্তি। বাংলাদেশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (BFI) বিশ্বাস করে একজন পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাতা হতে হলে তাত্ত্বিক পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক সংবেদনশীলতা ও বাস্তব নির্মাণের সরাসরি অভিজ্ঞতা অপরিহার্য।
বিএফআই-এর ক্লাসরুমে প্রথম পর্বে শিক্ষার্থীরা চিত্রনাট্যের ড্রামাটিক স্ট্রাকচার, মানবিক চরিত্রায়ন, ভিজ্যুয়াল মেটাফোর, আলো-ছায়ার মনস্তাত্ত্বিক ব্যবহার এবং সাউন্ড ডিজাইনের সমস্ত মৌলিক বিদ্যা গভীরভাবে অধ্যয়ন করে। এই তাত্ত্বিক ভিত্তি অর্জনের পর দ্বিতীয় পর্বে ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নির্মাণ করেছে তাদের প্র্যাকটিক্যাল শর্ট ফিল্ম “বৃহন্নলার গল্পগাঁথা”।
সমাজের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবনসংগ্রাম, আত্মপরিচয় ও সম্পর্কের টানাপোড়েনকে উপজীব্য করে নির্মিত এই শর্ট ফিল্মটির দৃশ্যধারণ করা হয় রাজধানী ঢাকার মনোরম প্রাকৃতিক লোকেশনে। চিত্রনাট্য অনুযায়ী সঠিক শট ডিভিশন, লেন্সিং নির্বাচন, জটিল চরিত্র রূপায়ণ এবং আউটডোর ডিরেকশনে শিক্ষার্থীরা পেয়েছে বরেণ্য শিক্ষক ও প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সার্বক্ষণিক মেন্টরশিপ।
প্রান্তিক জীবনের মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি ও বাস্তব আবেগ প্রকাশে অভিনেতাদের নিবিড় মহড়া ও নির্দেশনা।
প্রাকৃতিক আলো, বৃক্ষরাজির মায়াময় আবহ ও রাস্তার পরিমিত গভীরতায় সিনেমাটিক ফ্রেম রচনা।
গল্পের চরিত্রগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ফুটিয়ে তুলতে নিখুঁত মেকআপ ও কস্টিউম ডিজাইন নির্বাচন।
সিনেমার শট প্ল্যানিং ও মনিটরিংয়ে অভিজ্ঞ চলচ্চিত্র শিক্ষকদের সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও স্পট গাইডেন্স।
ক্যামেরার পেছনে তরুণ নির্মাতাদের একাগ্র নিষ্ঠা এবং ক্যামেরার সামনে শিল্পীদের প্রাণবন্ত অভিনয় "বৃহন্নলার গল্পগাঁথা" শর্ট ফিল্মটিকে এক অনন্য মানবিক মাত্রা এনে দিয়েছে।


